সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি, কোনো বৈষম্য থাকবে না : এমপি কামরুজ্জামান কামরুল মেয়েকে হারিয়েছেন পানিতে, এখন অন্য শিশুদের বাঁচাতে সাঁতার শেখান বাবা লোকজ পরিবেশনায় চিত্রায়িত হল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অযত্ন-অবহেলায় অকেজো কোটি টাকার রেসকিউ বোট, সেবাবঞ্চিত হাওরবাসী সুনামগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে জন্মাষ্টমী উদযাপন সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই গর্বিত বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকেও পেছনে ফেললো বাংলাদেশ, খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার কয়েক হাজার মানুষের উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্বম্ভরপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন হাতকড়াসহ পলায়ন, ফেসবুক লাইভ; শেষ রক্ষা হলো না আসিরের জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী হাওরে ধানের বাজার মন্দা, চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দিরাই বিএনপিতে ঐক্য নেই, বাড়ছে বিভক্তি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে : র‌্যাবের মহাপরিচালক খেলাপি ঋণ আবারও ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হাওর ও কৃষক-মৎস্যজীবীদের রক্ষায় ১০ দফা দাবি সিলেটে দেশের প্রথম সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধ প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন, যা বললেন মন্ত্রী

মাতৃভাষা হারালে হারাবে সংস্কৃতির অস্তিত্ব

  • আপলোড সময় : ২৩-০২-২০২৬ ০৯:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০২-২০২৬ ১০:০৯:০০ পূর্বাহ্ন
মাতৃভাষা হারালে হারাবে সংস্কৃতির অস্তিত্ব
ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, একটি জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের প্রধান ভিত্তি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মাতৃভাষা আজ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। চর্চার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ঘাটতি এবং মূলধারার ভাষার প্রভাবের কারণে প্রজন্মান্তরে এসব ভাষার ব্যবহার ক্রমেই কমে যাচ্ছে। খাসিয়া, হাজং, গারো, চাকমা, বানাই ও মনিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু এসব ভাষা আজ পরিবারকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নতুন প্রজন্ম বিদ্যালয়, সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকা-ে বাংলা ভাষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। ফলে মাতৃভাষার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে শুধু ভাষাই নয়, হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে একটি জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও পরিচয়। ভাষা সংরক্ষণে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো শিক্ষা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আদিবাসী শিশুদের জন্য তাদের নিজস্ব ভাষায় কোনো পাঠ্যপুস্তক নেই। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে মাতৃভাষার কোনো স্থান না থাকায় শিশুরা ছোটবেলা থেকেই নিজ ভাষা শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাষা শেখার জন্য কোনো চর্চা কেন্দ্র বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে। ভাষার বৈচিত্র্য একটি দেশের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির প্রতীক। তাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ শুধু তাদের স্বার্থেই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্যও অপরিহার্য। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যকর ভূমিকা জরুরি। আদিবাসী ভাষায় প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে ভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগে। এছাড়া সমাজের মূলধারার মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন, যাতে কেউ নিজের মাতৃভাষায় কথা বলার কারণে উপহাস বা অবজ্ঞার শিকার না হন। ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই একটি সভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের পরিচায়ক। আজ যদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে আগামী প্রজন্ম হয়তো এসব ভাষার নাম শুধু বইয়ের পাতায় খুঁজে পাবে। তাই এখনই সময়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণে সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের। কারণ ভাষা হারানো মানে একটি জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় হারানো - যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অযত্ন-অবহেলায় অকেজো কোটি টাকার রেসকিউ বোট, সেবাবঞ্চিত হাওরবাসী

অযত্ন-অবহেলায় অকেজো কোটি টাকার রেসকিউ বোট, সেবাবঞ্চিত হাওরবাসী